মূল Spirituality (আধ্যাত্মিকতা টিপস) দেজা ভু, কী এবং কেন?

দেজা ভু, কী এবং কেন?

দেজা ভু, কী এবং কেন?

এই দুনিয়াতে প্রতিনিয়ত অবাক করা কিছু না কিছু জিনিস ঘটে চলেছে। কখনো আমরা তা প্রত্যক্ষভাবে চোখে দেখতে পাই, কখনো তা মস্তিষ্ক বা আমাদের ইন্দ্রিয় দ্বারা অনুভব করি। আমরা অনেক সময় অনেক জায়গায় ঘুরতে যাই। দূরে বা কাছে যেখানেই হোক, অনেক সময় এটা হয় যে কোন অচেনা জায়গায় গেলে একটা অদ্ভুত অনুভুতি মনের মধ্যে আসতে থাকে। যেন মনে হয় এই অচেনা জায়গা নামে অচেনা হলেও কোথাও যেন এই জায়গা দেখেছি বা এই জায়গায় আগে কখনো এসেছি। একটা টান অনুভব করতে পারি। বা কারো সাথে কোন কথোপকথন যা বলতে বলতে হঠাৎ করে যেন মনে হয় আগে যেন ঠিক এই কথোপকথনে আমি করেছি। এই ঘটনাকে ডেজা-ভু বলে অভিহিত করা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন যে দুনিয়ার প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ কম বেশি এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়। ফরাসি ভাষায় ডেজা-ভু কথার অর্থ ” আগেই দেখা বা পূর্ব পরিচিত”। এখন থেকেই এই কথাটি প্রচলিত হয়েছে।

কিভাবে ঘটে :

সেই অর্থে দেখতে গেলে এর কোন প্রচলিত ব্যাখ্যা নেই বা বিশ্লেষণ নেই। অকস্মাৎ ঘটে যাওয়া ঘটনা ছাড়া একে আর কোন ভাবে ব্যাখ্যা কোন মানুষ দিতেও পারেনি। আধুনিক বিজ্ঞান সেই ভাবে একে কাটাছেঁড়া করতে পারেনি। তবে বিজ্ঞানীদের ধারণা এর জন্য আমাদের মস্তিষ্ক দায়ী। চিকিৎসা শাস্ত্র অনুযায়ী সুদূরপ্রসারী সম্পর্ক এবং তার স্মৃতি শক্তি ধারণ করে রাখার জন্য আমাদের মস্তিষ্কের মধ্যবর্তী টেম্পোরাল লোব দায়ী। রেনাল কর্টেক্স যেমন মিল খোঁজার চেষ্টা সব সময় করে, নিখুঁত ভাবে মনে করার চেষ্টা করে আমাদের মস্তিষ্কের হিপ্পোক্যাম্পাস। অনেক সময় আমাদের স্নায়ু কোষ বা নিউরোনের কর্মহীনতার কারণে আমাদের মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোবে যে ইলেকট্রিক শকের সৃষ্টি হয়, মনে করা হয় তার থেকে এই ডেজা-ভু ঘটনার সৃষ্টি হয়।

Deja vu

ধরণ :

ঘটনা প্রকারভেদ অনুযায়ী এই মোটামুটি চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে।

১. Attentional: মানে ধরে নেওয়া যাক আপনি একটা কাজ করতে গেলেন, ঠিক সেই সময় অন্য কোনো আওয়াজে সেদিকে আপনার দৃষ্টি গেল। পরবর্তীতে যখন আপনি দরজা খুলে ঢুকতে গেলেন ঘরে, অনেক সময় পূর্ববর্তী ঘটনাকে মনে হবে আগেই ঘটে যাওয়া কোনো ঘটনা।

২. Memory: এক্ষেত্রে অনেক সময় কোনো ঘটনা বা কোনো চোখে দেখা জিনিসের একটা অংশ বিশেষ খুব চেনা লাগে। কিন্তু কোনোভাবেই তার শুরু বা পুরো অংশ বা ঘটনা মনে করা যায় না।

৩. Dual processing: অনেক সময় হয় যে মিল খুঁজে পাওয়া যায় কিন্তু একই সাথে কোথায় কিসের সাথে মিল তার কোনো ধারণাই পাওয়া যায়না। আবার অনেক সময় যে ভাবনা মনের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, তার সাথে আমাদের মস্তিষ্কের হয় তো কোনো যোগাযোগ স্থাপন করা কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে।

৪. Neurological: স্নায়ুকোষের কর্মহীনতার কারণে আমাদের ইন্দ্রিয় গুলোর অসংলগ্ন প্রতিক্রিয়া অনেক সময় আমরা অনুভব করে থাকি।

Deja vu

কেন এবং কখন :

হ্যাঁ এটা ঠিক যে এই ঘটনার সেই অর্থে কোনো ধরাবাঁধা সময় নেই। কখন কোন সময় ঘটবে বা আদৌ ঘটবে কিনা তা আগে থেকে বোঝা যায় না। তবে স্নায়ু চিকিৎসক, মনোবিদ, এবং বিজ্ঞানীরা ঘটনার ধরন দেখে বুঝবার চেষ্টা করেছেন যে কখন এই ধরনের অনুভূতি কেউ পেতে পারে। বা বলা ভালো কখন এবং কেন এই ঘটনা কেউ অনুভূত করছে তার সহজ সরল ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন বা ব্যাখ্যা খোঁজার চেষ্টা করেছেন।

• হতে পারে সত্যি সত্যি যে জিনিসটা আপনার মনে হয়েছে কোন জায়গায় গিয়ে বা কোন ঘটনা দেখে, সেটা আগে সত্যি আপনার সাথে ঘটেছিল।

• হয়তো আপনি কোন কাজ করছেন বা কোথাও গেছিলেন যেখানে আপনার যতটা নজর দেওয়া উচিত ছিল বা যতটা খেয়াল করা বা খেয়াল রাখার দরকার ছিল ততটা দিতে পারেননি বা দেননি।

• হয়তো আপনি কোন জিনিস দেখলেন প্রথমবারে যেটাকে হয়তো প্রথমে অতটা খেয়াল দেননি। তার কিছুক্ষণ পরেই যখন সেই একই জিনিস কে আবার সতর্কতার সাথে দেখলেন তখন মনে হতে পারে যে এই জিনিস তো আমি একটু আগেই যেন কোথায় দেখেছি।

• আগেই বলেছি স্নায়ু কোষের কর্মহীনতার কারণ এই ঘটনা ঘটতে পারে। অনেক সময় কম ঘুমানোর জন্য স্নায়ু কোষের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ায় স্নায়ুকোষের কর্মহীনতা দেখা যায়।

অনেকে মৃত্যুর পরবর্তী জীবন বা পুনর্জন্মের কথা বিশ্বাস করেন আবার অনেকে করেন না। অনেকে মনে করেন পূর্ববর্তী জীবনের কথা এই জীবনে মনে থাকার কারণে অনেকে এই ঘটনা অনুভূত করে থাকে। তবে এর কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা নেই।

দেজা ভু, কী এবং কেন?

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here